বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬

জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০১৬ উদযাপিত


প্রকাশন তারিখ : 2016-09-27

আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। সমগ্র বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের বিশ্বপর্যটন সংস্থা (UNWTO)-এর উদ্যোগে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০১৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো TOURISM FOR ALL: PROMOTING UNIVERSAL ACCESSIBILITY অর্থাৎ সকলের জন্য পর্যটন  সার্বজনীন পর্যটনের অভিগম্যতা। বিশ্বের প্রতিটি মানুষের পর্যটন উপভোগের অধিকার নিশ্চিতকরণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই দিবসের তাৎপর্যকে বাংলাদেশে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান এবং তা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব ও এর সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য সম্পর্কে অবগতি ও সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে দিবসটি প্রতিবছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন উদ্ভূত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা ও সে লক্ষ্য অর্জনে পর্যটন শিল্পে পালনযোগ্য ভূমিকাকে তুলে ধরাও দিবসটি উদযাপনের আরেকটি অন্যতম উদ্দেশ্য।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃক ২০১৬ সালকে ‘ভিজিট বাংলাদেশ ২০১৬’ ঘোষণার প্রেক্ষিতে দেশের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং সকল ধরণের পর্যটন উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন অগ্রণী ভুমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশ পর্যটন নীতিমালা ২০১০ এ টেকসই পর্যটন উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যা এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়কে ধারণ করে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন সকল বয়সী এবং বিভিন্ন শ্রেণির পর্যটকদের সহজ গমনাগমন এবং রাত্রিযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস - ২০১৬ উপলক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তত্ত্বাবধানে অদ্য ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮-৩০ ঘটিকায় ঢাকার মৎস্য ভবন থেকে টিএসসি পর্যন্ত যথাযোগ্য মর্যাদা ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত র‌্যালিতে দেশের বিভিন্ন পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। আয়োজিত র‌্যালির নেতৃত্বে ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব এস, এম, গোলাম ফারুক, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এর সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব অপরূপ চৌধুরী, পিএইচ.ডি, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আখতারুজ জামান খান কবির, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এর পরিচালকবৃন্দ এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমূহ।

বিশ্ব পর্যটন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে আজ বিকাল ৩.০০ টায় অত্র সংস্থার অধীনস্থ হোটেল অবকাশ, মহাখালী, ঢাকা এর ব্যাংকুয়েট হলে ‘‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০১৬’’ উপলক্ষ্যে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব এস, এম, গোলাম ফারুক, সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব আখতারুজ জামান খান কবির, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। উক্ত সেমিনারের সভাপতিত্ব করবেন জনাব অপরূপ চৌধুরী, পিএইচ.ডি, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।  সেমিনারে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এর পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) জনাব মুহম্মদ মউদুদউর রশীদ সফদার, অতিরিক্ত সচিব, ড. মোঃ নাসির উদ্দিন, যুগ্ম-সচিব ও পরিচালক (বাণিজ্যিক), একই সংস্থার উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এবং দেশের প্রখ্যাত পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে TOURISM FOR ALL: PROMOTING UNIVERSAL ACCESSIBILITY অর্থাৎ সকলের জন্য পর্যটন ঃ সার্বজনীন পর্যটনের অভিগম্যতা অর্থাৎ বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর আলোচনা হয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব এস, এম, গোলাম ফারুক বক্তব্যে বলেন বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প উন্নয়নের এক অমিত সম্ভাবনার দেশ। সম্প্রতি এই শিল্প দেশের আর্থ-সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ প্রকৃতির অকৃপণ দানে এবং সৌন্দর্যসম্ভারে ভরপুর। এর অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যুগ যুগ ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান জনাব অপরূপ চৌধুরী, পিএইচ.ডি, তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সকল ধরণের পর্যটকদের জন্য শান্তির গন্তব্য হিসেবে সুবিদিত। বাংলাদেশ অগণিত প্রতœতাত্ত্বিক সম্পদ এবং উষ্ণ আতিথেয়তার কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকগণ স্বাচ্ছন্দে এদেশ ভ্রমণ করতে পারে। আমাদের সকলের নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল কিংবা শারীরিকভাবে অক্ষম, নবীন-প্রবীণ যাই হোকনা কেন, সকল ধরণের পর্যটকের জন্য ভ্রমণ উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে পারব। আমরা যদি এসকল কার্যক্রম সফলভাবে সম্পাদন করতে পারি তাহলে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়, অর্থকরী, দ্রুত সম্প্রসারণশীল বহুমাত্রিক শিল্প হিসেবে স্বীকৃত পর্যটন শিল্পের সর্ববৃহৎ আয়োজন ২৭ সেপ্টেম্বরে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালনের উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখপূর্বক স্বাগত জানিয়ে পর্যটন দিবসের মূল প্রতিপাদ্যকে অনুসরণপূর্বক TOURISM FOR ALL: PROMOTING UNIVERSAL ACCESSIBILITY সকলের জন্য পর্যটনঃ সার্বজনীন পর্যটনের অভিগম্যতার উপর প্রত্যেককেই কার্যকরী ভূমিকা পালন করার জন্য আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী হাজারো ব্যবসা সংগঠন ও পর্যটন পণ্য বিপণনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান সমূহ সফলতা অর্জনের মাধ্যমে প্রতিবৎসর লক্ষাধিক পর্যটককে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আখতারুজ জামান খান কবির তাঁর বক্তব্যে বলেন, পর্যটন শিল্প একটি বহুমাত্রিক শিল্প। এখানে যেমন রয়েছে বিনোদন, তেমনি রয়েছে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। দেশের মানুষের বেকারত্ব নিরসনকল্পে এ শিল্প অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এর পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব জনাব মুহম্মদ মউদুদউর রশীদ সফদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রকৃতিনির্ভর বাংলাদেশের মানুষের জীবন জীবিকা, সমাজ সংস্কৃতি প্রতিটি ভ্রমণপ্রিয় মানুষকে নিয়ে। বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণের অন্যতম অহংকার বিশ্বের দীর্ঘতম নিরবচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত-কক্সবাজার। এছাড়াও বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল-সুন্দরবন, সমুদ্রকন্যা-কুয়াকাটা, হাকালুকি, ট্যাংগুয়া হাওড়, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, সেন্টমার্টিন দ্বীপ অন্যতম। প্রকৃতি নির্ভর এ শিল্প পর্যটন উন্নয়নের মাধ্যমে পরিপূর্ণ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে আমাদের এ সম্পদকে সুরক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আগত স্টেক হোল্ডারগণ তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিশ্বাস করেন আমাদের দেশের পর্যটন শিল্প অতি শিঘ্রই বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে নিরাপদ ভ্রমণকেন্দ্র হিবেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি অর্জনের সক্ষম হবে।  

সেমিনারে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর মূল ‘প্রবন্ধ’ পাঠ করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এর উপ-ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) জনাব মোঃ জিয়াউল হক হাওলাদার। এছাড়া এবিষয়ে পর্যটন শিল্পের উদ্যোক্তা, সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পর্যটন সুবিধাভোগী এবং পর্যটকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।


Share with :